নৌপথের নাব্যতা ফেরাতে ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে: নৌ প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
নদীতে নৌযানের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান।
রোববার পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহীপুর থানা সংলগ্ন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘাটে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ কথা বলেন। ‘নৌযানের ডাটাবেইজ তৈরি ও নৌযান ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পের আওতায় নৌযান শুমারি কার্যক্রম পরিদর্শন এবং এর সুফল সম্পর্কে অবহিতকরণ উপলক্ষে সভাটি আয়োজন করা হয়।
সভায় মহীপুরের জনগণ ও স্থানীয় জেলেদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলেদের নিরাপদে ঘাটে ফিরে আসা নিশ্চিত করতে সাগর ও নদীর মোহনায় একটি লাইটহাউজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলেদের অবকাশকালীন সরকারি বরাদ্দের প্রণোদনা যাতে যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়া হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং অবৈধ ট্রলিং জাহাজ বন্ধের বিষয়েও স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেন তিনি।
পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রী ঘাটে বাঁধা একটি ফিশিং বোটে আরোহন করে নৌযান মালিক, শ্রমিক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং নৌযান শুমারিতে অন্তর্ভুক্তির সুফল সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নৌযান শুমারিতে আপনার নৌযানের তথ্য অন্তর্ভুক্ত হলে আপনারাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। একদিকে যেমন সরকারি সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে তথ্যটি কাজে আসবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে বিদেশি সহযোগিতা ও উন্নয়ন সহায়তা গ্রহণের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের নৌযান খাত সম্পর্কে একটি নির্ভরযোগ্য, হালনাগাদ ও পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যানভিত্তিক চিত্র পাওয়া যাবে। এর ফলে নৌযানের নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও কার্যকর করা, নৌনিরাপত্তা জোরদার করা, নৌপথ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পাওয়া সহজ হবে।
এ সময় নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোঃ শফিউল বারীসহ নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গত ২০ আগস্ট ‘নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি’ স্লোগানকে সামনে রেখে দেশে প্রথমবারের মতো ‘নৌযান শুমারি ২০২৬’ কার্যক্রম শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রাথমিক লিস্টিং অপারেশনের মাধ্যমে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮০৮টি নৌযানের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।